ঢাকা , বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ , ১ আশ্বিন ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

ইসলামী ব্যাংক ঘিরে টানা চতুর্থ দিনের কর্মসূচি

স্টাফ রিপোর্টার
আপলোড সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০২:০৯:০৪ অপরাহ্ন
আপডেট সময় : ১৬-০৯-২০২৬ ০২:০৯:০৪ অপরাহ্ন
ইসলামী ব্যাংক ঘিরে টানা চতুর্থ দিনের কর্মসূচি ছবি : সংগৃহীত
রাজধানীর মতিঝিলে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসিকে ঘিরে টানা চতুর্থ দিনের মতো কর্মসূচি পালন করেছে ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম। একই সময়ে চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের একটি দল শাপলা চত্বরের পাশেও অবস্থান নিয়েছে। আজ বুধবার আন্দোলনকারীরা শাপলা চত্বর থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন বলেও জানা গেছে।

গত দুই দিনের সংঘর্ষের পর আজ বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুই পক্ষকে আলাদা অবস্থানে রাখতে এলাকায় কঠোর নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

বুধবার সকাল থেকেই দিলকুশায় ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে জড়ো হন সচেতন গ্রাহক ফোরামের সদস্যরা। পরে তারা বিক্ষোভ সমাবেশ করেন এবং বিভিন্ন দাবিতে স্লোগান দেন।

অন্যদিকে, চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা শাপলা চত্বরের পাশে অবস্থান নিয়ে ‘দফা এক, দাবি এক—চাকরি ফেরত চাই’ স্লোগান দেন। তাদের কয়েকজন চট্টগ্রামের পটিয়া থেকেও কর্মসূচিতে যোগ দেন।

চাকরিচ্যুতদের পক্ষ থেকে জানানো হয়, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে তারা শাপলা চত্বর থেকে সচিবালয় অভিমুখে পদযাত্রা করবেন।

অবস্থান কর্মসূচিতে সচেতন গ্রাহক ফোরামের সভাপতি অধ্যাপক নুরুন্নবী মানিক বলেন, ইসলামী ব্যাংককে অস্থিতিশীল করার যেকোনো অপচেষ্টা প্রতিহত করতে গ্রাহকেরা ঐক্যবদ্ধ থাকবেন। তিনি দ্রুত একটি পূর্ণাঙ্গ পরিচালনা পর্ষদ গঠন এবং গ্রাহকদের আস্থা ফিরিয়ে আনতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানান।

তিনি আরও বলেন, এস আলম গ্রুপের বিদেশে পাচার করা সম্পদ উদ্ধার, অবৈধ ঋণের সমন্বয় এবং সংশ্লিষ্ট মামলাগুলোর দ্রুত নিষ্পত্তি করতে হবে।

ফোরামের সচিব মুতাসিম বিল্লাহ বলেন, ব্যাংক কোম্পানি আইনের ১৪(খ) ধারা অনুযায়ী এস আলম গ্রুপের অবৈধভাবে ধারণ করা শেয়ার বাজেয়াপ্ত করে বাজারে বিক্রি অথবা প্রকৃত মালিকদের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করতে হবে।

চাকরিচ্যুতদের প্রসঙ্গে তিনি অভিযোগ করেন, এস আলমের সময়ে নিয়োগ পাওয়া আন্দোলনরত অনেকেই নিয়মিত নিয়োগ প্রক্রিয়ার বাইরে ছিলেন এবং পরে নেওয়া যাচাই-বাছাই পরীক্ষায় অংশ নেননি। তবে এ অভিযোগের বিষয়ে চাকরিচ্যুতদের পক্ষ থেকে ভিন্ন বক্তব্য দেওয়া হয়েছে।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীরা বলেন, দীর্ঘদিন ব্যাংকে কর্মরত থাকার পর যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ না করেই তাদের চাকরিচ্যুত করা হয়েছে। তারা পুনর্বহাল, প্রাপ্য পদোন্নতি এবং অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা টিপু বলেন, চাকরি হারানোর পর পরিবার নিয়ে মানবেতর জীবন কাটাতে হচ্ছে। চিকিৎসা, সন্তানদের পড়াশোনা এবং দৈনন্দিন ব্যয় মেটানো কঠিন হয়ে পড়েছে।

তিনি অভিযোগ করেন, তাদের কর্মসূচির সময় গ্রাহক ফোরামের নামে পাল্টা কর্মসূচি দেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি সরকারকে খতিয়ে দেখারও আহ্বান জানান তিনি।

গত সোমবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারের সামনে সচেতন গ্রাহক ফোরাম ও চাকরিচ্যুত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। উভয় পক্ষই এতে আহত হওয়ার দাবি করে।

এরপর মঙ্গলবারও গ্রাহক ফোরাম ব্যাংকের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করে। তবে সেদিন চাকরিচ্যুতদের সেখানে দেখা যায়নি।

টানা উত্তেজনার মধ্যে বুধবার দুই পক্ষকে পৃথক স্থানে অবস্থান করতে দেখা যায়। সম্ভাব্য অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে দিলকুশা ও শাপলা চত্বর এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
 
বাংলাস্কুপ/প্রতিবেদক/এনআইএন
 


প্রিন্ট করুন
কমেন্ট বক্স



 

এ জাতীয় আরো খবর

সর্বশেষ সংবাদ